মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ সচল করতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । তবে তাঁর আহ্বানে এখনো সরাসরি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়নি বেশ কয়েকটি দেশ।
ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার জেরে তেহরান প্রণালীটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে সাতটি মিত্র দেশের সহায়তা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম। তিনি জানিয়েছেন, কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে, তবে সেসব দেশের নাম প্রকাশ করেননি। আগের এক বার্তায় তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর অংশগ্রহণের আশা প্রকাশ করেছিলেন। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকটগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পাহারার জন্য নৌবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি টোকিও। তিনি বলেন, জাপান নিজস্ব আইনি কাঠামো ও সামর্থ্য বিবেচনা করে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকারও এই মুহূর্তে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। প্রধানমন্ত্রী এন্থনী আল বানাস এর মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাথেরিন কিং জানান, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে এখনো এমন কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসেনি এবং দেশটি এতে অংশ নিচ্ছে না।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশটির আইন অনুযায়ী বিদেশে সেনা পাঠাতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন, যা রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইতোমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে বাধা দূর করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট। তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলেছেন।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান একটি ছোট নৌ মিশন আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছেন। তবে প্রণালী পুনরায় চালু করতে তারা সরাসরি অতিরিক্ত ভূমিকা নেবে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। কারণ এই জলপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

