‘আইনবহির্ভূত আগ্রাসনের’ কাছে নতিস্বীকার করবে না তেহরান। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিল ইরান।
জেনেভায় সোমবার পরিষদের অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে ইরানের জনগণ।
তেহরানের মতে, পরিষদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ।
জেনেভায় জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেইনি বলেন, ‘ইরান সম্পর্কিত সবচেয়ে জরুরি ও মৌলিক মানবাধিকার ইস্যু হলো ৯ কোটি মানুষের জীবনের ওপর আসন্ন হুমকি, যারা বেপরোয়া সামরিক আগ্রাসনের ছায়ায় তাত্ক্ষণিক ও গুরুতর বিপদের মধ্যে রয়েছে।’
তিনি বলেন, এটি এমন এক আগ্রাসন ‘যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কিছু সবচেয়ে আইনবহির্ভূত ও নীতিহীন শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।’
বাহরেইনি সতর্ক করে বলেন, যদি এমন ‘বেপরোয়া সামরিকতাবাদ’ উপেক্ষিত হয়, তবে ‘এমন আচরণের শিকার হতে যাওয়া ইরানই শেষ দেশ হবে না।’
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, যার জবাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় বাহরেইনি জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থাকে আহ্বান জানান, যেন তারা ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর ‘বাছবিচারহীন’ হামলা এবং ‘স্কুলের বেঞ্চে বসে থাকা নিরীহ শিশুদের হত্যার’ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। ওয়াশিংটন বলেছে, ঘটনাটি তারা তদন্ত করছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে ইরানের কাছে ঠিক কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে?’
তিনি আরো বলেন, ‘ইরান এমন জাতি নয়, যারা জোরজবরদস্তি, ভয়ভীতি বা আইনবহির্ভূত আগ্রাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করবে।’

