মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ১৭তম দিনে নতুন বার্তা দিয়েছেন ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি। সোমবার (১৬ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান হামলার তীব্র সমালোচনা করেন।
তার এই বার্তা মূলত বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং ইসলামি দেশগুলোর সরকারগুলোর উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়; বরং এটি মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার সঙ্গেও জড়িত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “বড় শয়তান” এবং ইসরাইলকে “ছোট শয়তান” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মধ্যেই মুসলিম বিশ্বের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু ইসলামি দেশের অবস্থান ইসলামি শিক্ষা ও মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো অন্য কোনো মুমিন ব্যক্তি সাহায্যের আহ্বান জানালে তার পাশে দাঁড়ানো।
লারিজানির বক্তব্যে সেইসব দেশগুলোর সমালোচনারও জবাব দেওয়া হয়েছে, যারা তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্বার্থের ওপর ইরানের হামলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি যুক্তি দেন, যদি সেই ঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে ইরানের পক্ষে নিষ্ক্রিয় থাকা সম্ভব নয়। তার মতে, বর্তমান সংঘাতকে শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধ হিসেবে দেখা যাবে না। তিনি বলেন, “আজকের এই সংঘাত আসলে একদিকে আমেরিকা ও ইসরাইল এবং অন্যদিকে মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধ শক্তিগুলোর মধ্যে।”
লারিজানি ইসলামি বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন বর্তমান পরিস্থিতি নতুনভাবে মূল্যায়ন করেন এবং অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেন।
তিনি আরও বলেন, ইরান অন্য কোনো দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না। বরং দেশটি নিজেদের অবস্থান থেকে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আন্তরিক পরামর্শ দিচ্ছে।
বার্তার শেষাংশে লারিজানি জোর দিয়ে বলেন, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে ইসলামি উম্মাহর মধ্যে ঐক্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

