মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শেয়ারবাজার, পরিবহন খাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
যুদ্ধের পর থেকে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে, জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিগুলো নতুন অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক অর্থনীতিবিদ এখন আশঙ্কা করছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ পরিবহন হয়, ফলে এই রুটে হামলা ও নিরাপত্তা সংকট বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
এই প্রবন্ধে আমরা বিস্তারিতভাবে দেখব—কীভাবে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিচ্ছে এবং কোন কোন সূচক ভবিষ্যতের বড় অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্বালানির দামে বিস্ফোরণ: তেল ও গ্যাস বাজারে অস্থিরতা
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর ইরান পাল্টা হামলা চালায়। তেহরান ইসরায়েল, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, তেল ডিপো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন অবকাঠামোর ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এছাড়াও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি জাহাজের ওপর আক্রমণ হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটে জাহাজ চলাচল কমে যায়।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ১০৬ ডলার, যা ২৭ ফেব্রুয়ারির ৭২ ডলার থেকে ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি।
শুধু তেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও একই ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক মুইউ শুর মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এর দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
এই দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ একটি বড় ঘটনা।
২ মার্চ ২০২৬, একটি ইরানি ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি কোম্পানি কাতার এনার্জি তাদেরে এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করে। উল্লেখ্য, কাতার একাই বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করে।
ফলে বৈশ্বিক গ্যাস বাজারেও সরবরাহ সংকট তৈরি হয়।
জ্বালানির পাশাপাশি পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির দামও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে তাহলে এই দাম আরও বাড়তে পারে।
এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে
এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ছে না। কিছু অঞ্চলের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিশেষ করে এশিয়ার অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হওয়া তেলের বড় অংশই যায় এশিয়ার দেশগুলোতে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ৮৪ শতাংশ তেল এবং ৮৩ শতাংশ এলএনজি এশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।
এই তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চারটি দেশ:
-
চীন
-
ভারত
-
জাপান
-
দক্ষিণ কোরিয়া
এই চারটি দেশই মিলে প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি করে।
ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এশিয়ার শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহন খাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়তে পারে।
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের দাম কোথায় যেতে পারে
বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা এখন মূলত দুইটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন।
প্রথম পরিস্থিতি হলো—যদি যুদ্ধ দ্রুত শোপিতা
ক্যাপিটাল অর্থনীতি -এর অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি সংঘাত স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয় এবং হরমুজ প্রণালীতে হামলা বন্ধ হয় তাহলে জ্বালানি বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হতে পারে।
তাদের অনুমান অনুযায়ী, সেই ক্ষেত্রে বছরের শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার ৬৫ ডলার প্রতি ব্যারেলের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।
কিন্তু দ্বিতীয় পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক।
যদি যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে, তাহলে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী তখন:
-
তেলের দাম ১৩০ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে
-
কিছু সময়ের জন্য ১৫০ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্তও যেতে পারে
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে।
পেট্রোলের দাম বাড়ায় কমছে উৎপাদন
জ্বালানি দামের বৃদ্ধি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
কারণ প্রায় সব শিল্প, পরিবহন ও উৎপাদন খাতই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।
Global Petrol Prices-এর তথ্য অনুযায়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্তত ৮৫টি দেশে পেট্রোলের দাম বেড়েছে।
কিছু দেশে এই বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য।
উদাহরণ হিসেবে:
-
কম্বোডিয়া: প্রায় ৬৮% বৃদ্ধি
-
ভিয়েতনাম: ৫০% বৃদ্ধি
-
নাইজেরিয়া: ৩৫% বৃদ্ধি
-
লাওস: ৩৩% বৃদ্ধি
-
কানাডা: ২৮% বৃদ্ধি
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।
পাকিস্তানে সরকার চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে এবং সরকারি কর্মীদের ৫০ শতাংশকে বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।
ফিলিপাইনেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মিয়ানমারে আবার একটি অদ্ভুত নিয়ম চালু হয়েছে—গাড়ি একদিন পরপর চলতে পারবে।
শ্রীলঙ্কায় গাড়ির মালিকদের QR কোড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে শিল্প ও সেবা খাতের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা দীর্ঘ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় পতন
যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিশ্ব শেয়ারবাজারে।
Bloomberg-এর একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের শেয়ারবাজার গড়ে ৫.৫ শতাংশ কমেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এশিয়ার বাজারগুলো।
২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর অবস্থা:
-
নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (NYSE): ৬% পতন
-
নাসডাক: ২.৪% পতন
-
সাংহাই কম্পোজিট: ১.৮৬% পতন
-
টোকিও নিক্কেই ২২৫: ১১% পতন
-
ভারতের নিফটি ৫০: ৭% পতন
-
হংকং হ্যাং সেং: ৪% পতন
-
লন্ডন FTSE 100: ৫.৩% পতন
-
সৌদি তাদাউল: ৯.৬% পতন
-
ইউরোপ STOXX 600: ৬% পতন
-
অস্ট্রেলিয়ান ASX: ৬% এর বেশি পতন
তবে একটি আকর্ষণীয় ব্যতিক্রমও দেখা গেছে।
রাশিয়ার শেয়ারবাজার উল্টো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, কারণ যুদ্ধের ফলে বিশ্বে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে রাশিয়ার গুরুত্ব বেড়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও স্ট্যাগফ্লেশনের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মুদ্রাস্ফীতির ঢেউ তৈরি করতে পারে।
IMF-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা ৯ মার্চ এক বক্তব্যে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে আবারও পরীক্ষা করছে।
ইতিহাস দেখায়, তেলের বড় মূল্যবৃদ্ধির পর প্রায়ই অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়।
১৯৭৩, ১৯৭৮ এবং ২০০৮ সালের বড় অর্থনৈতিক সংকটগুলোর পেছনেও তেলের দাম বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
অর্থনীতিবিদরা এখন যে পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন তাকে বলা হয় স্ট্যাগফ্লেশন।
এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে:
-
মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে
-
কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যায়
-
এবং বেকারত্ব বাড়তে থাকে
এই ধরনের পরিস্থিতি অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে কঠিন।
ইউরোপের অর্থনীতিতে নতুন চাপ
বিশেষজ্ঞদের মতে ইউরোপ এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে।
কারণ ইউরোপ ইতিমধ্যেই রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ হারানোর কারণে উচ্চ জ্বালানি খরচে ভুগছে।
নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের ক্ষতি এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের জ্বালানি বাজার আগেই চাপের মধ্যে ছিল।
এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফলে ইউরোপের শিল্প উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ধীর হয়ে যেতে পারে।
চীনের তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থান
বিশেষজ্ঞদের মতে চীন তুলনামূলকভাবে কিছুটা নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
কারণ গত কয়েক বছরে চীন বড় পরিসরে জ্বালানি বৈচিত্র্য তৈরি করেছে।
তারা বিনিয়োগ করেছে:
-
নবায়নযোগ্য জ্বালানি
-
পারমাণবিক বিদ্যুৎ
-
কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ
-
বিকল্প তেল সরবরাহ
এছাড়াও চীন বড় আকারের কৌশলগত জ্বালানি মজুত তৈরি করেছে।
তবে বিশ্ব অর্থনীতি দুর্বল হলে চীনের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
Capital Economics-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে চললে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে।
তাদের মতে:
-
ইউরোজোনে প্রবৃদ্ধি কমে ০.৫% হতে পারে
-
চীনের প্রবৃদ্ধি ৩% এর নিচে নেমে যেতে পারে
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় থাকতে পারে।
তাদের অনুমান অনুযায়ী ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২.২৫% প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
বিমান ভ্রমণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে
যুদ্ধের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিমানকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
ফলে:
-
ফ্লাইট সময় বেড়ে যাচ্ছে
-
জ্বালানি খরচ বাড়ছে
-
টিকিটের দাম বাড়ছে
যুদ্ধের আগে জেট ফুয়েলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৮৫ থেকে ৯০ ডলার।
এখন তা বেড়ে ১৫০ থেকে ২০০ ডলার প্রতি ব্যারেল হয়েছে।
এই কারণে Qantas, SAS, Air New Zealand, IndiGo এবং Air India সহ অনেক এয়ারলাইন ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
সামনে কী হতে পারে?
বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংঘাত দ্রুত শেষ না হলে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
আগামী মাসগুলোতে আমরা দেখতে পারি:
-
জ্বালানি ও খাদ্যদামের আরও বৃদ্ধি
-
শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়া
-
বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধীরগতি
-
ঋণ সংকটের ঝুঁকি
-
এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দা
অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়—এটি ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি কতটা গুরুতর হবে তা নির্ভর করছে যুদ্ধ কত দ্রুত শেষ হয় তার ওপর।
যদি সংঘাত দীর্ঘ হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি আবারও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।

