মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা চেয়ে মিত্রদেশগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম। তবে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-এর দায়িত্বের আওতায় পড়ে না। ফলে জার্মানি এতে সামরিকভাবে জড়াবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তৈরি হওয়া সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী –এ জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে জার্মান সরকার এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন, এই সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় করেনি। তাই এ যুদ্ধে জার্মানির সামরিক অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, শুরু থেকেই জার্মানির অবস্থান পরিষ্কার—এটি ন্যাটোর আওতার কোনো সামরিক মিশন নয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেই।
মের্ৎস আরও জানান, যতদিন সংঘাত চলবে ততদিন সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত করার কোনো উদ্যোগে জার্মানি যুক্ত হবে না। এ বিষয়ে আগে থেকেই একই সুর শোনা গেছে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকেও। চ্যান্সেলরের মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াস এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ন্যাটো মূলত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষামূলক জোট। বর্তমান সংঘাতে জোটকে যুক্ত করার মতো কোনো আন্তর্জাতিক অনুমোদন বা ম্যান্ডেট নেই।
অন্যদিকে স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদেশগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে অন্য দেশগুলোকেও দ্রুত এগিয়ে আসা উচিত। এ ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলো দায়িত্ব না নিলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাজ্যও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তেলের বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে হরমুজ প্রণালি চালু রাখা জরুরি। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে এবং ব্রিটেন কোনো বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন কেবল সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক জোট রাজনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

