মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, জ্বালানি অবকাঠামোও সরাসরি আঘাতের মুখে পড়ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হাইফায় একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
হামলার পরপরই উত্তর ও মধ্য ইসরাইলসহ জেরুজালেম এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বেজে ওঠে। ঠিক তার কিছুক্ষণ পরই হাইফার ওই তেল শোধনাগারে আগুন লাগার খবর সামনে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত।
তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
হাইফার এই তেল শোধনাগারটি ইসরাইলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এখানে আগুন লাগার ঘটনা শুধু স্থানীয় নয়, বরং জাতীয় পর্যায়েও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এই প্রথম নয়, এর আগেও এই স্থাপনাটি হামলার মুখে পড়েছে। গত বছর ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালেও হাইফার এই শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ফলে এটি এখন সংঘাতের একটি পুনরাবৃত্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতা। বুধবার ভোরে ইসরাইল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায়। এটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এবং এর একটি অংশ কাতারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই হামলার জবাব দিতেই ইরান দ্রুত পাল্টা আঘাত হানে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু ইসরাইল নয়, ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি খাতেও হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে আগুন লাগার ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র হওয়ায় এই হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জ্বালানি স্থাপনাগুলো সরাসরি টার্গেটে পরিণত হওয়ায় শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিও এর ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে একের পর এক পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য ধীরে ধীরে একটি বড় আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো।
শেষ পর্যন্ত এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধ এখন আর সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

