ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অনলাইন জল্পনার মধ্যে ভারতকে মার্কিন সামরিক অভিযানের সঙ্গে জড়িয়ে ছড়িয়ে পড়া ‘ভাইরাল’ তথ্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত সরকার। সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান
শনিবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ইরান আক্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ভূমি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ “ভিত্তিহীন”।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বিবৃতিতে জনগণকে এই ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন এই ধরণের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, “সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরণের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি এবং পোস্টগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকুন!”
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন দিল্লির কাছে সাহায্য চেয়েছে—এমন ভুয়ো খবর ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পরই এই স্পষ্টীকরণ দেয় দিল্লি। ভারত সরকার জানিয়েছে, এই দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
২০১৬ সালে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘লজিস্টিকস এক্সচেঞ্জ মেমোরেন্ডাম অফ এগ্রিমেন্ট’ (এলইএমওএ) শুধুমাত্র রসদ আদান-প্রদান যেমন—জ্বালানি সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সীমাবদ্ধ। এই চুক্তি কোনো দেশকেই অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দেয় না। এর আগেও মার্কিন বাহিনী ভারতের বন্দর বা আকাশসীমা ব্যবহার করছে বলে গুঞ্জন উঠলে দেশটির সরকার তা একইভাবে অস্বীকার করেছিল।
কেন ছড়ালো এই গুজব?
সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ার পর থেকেই এই গুজবের সূত্রপাত হয়। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার কাছে একটি ইরানি জাহাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর ভারতের ভূমিকা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। নয়াদিল্লি দৃঢ়ভাবে এই ধরনের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে এবং স্পষ্ট করেছে যে কোনো সামরিক অভিযানে ভারতের কোনো স্থাপনা ব্যবহার করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলি হামলার পাল্টা হিসেবে ইরান ওই অঞ্চলজুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে এবং লন্ডন সীমিত শর্তে তাতে রাজি হলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

