মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ডিমোনায় একটি ভবন ধসে পড়েছে এবং এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) সংঘটিত এই হামলার পর ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, হামলার সময় একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আকাশ থেকে দ্রুতগতিতে একটি বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র নিচে নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই একটি তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে, আর সেই বিস্ফোরণের ধাক্কায় একটি ভবন ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনী ও জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এদিকে, একই দিনে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ জানিয়েছে, মা’লোত-তারশিহা এলাকায় রকেট হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, এই হামলার পেছনে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হাত রয়েছে। তারা উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে একঝাঁক রকেট নিক্ষেপ করেছে।
ফলে একদিনেই ইসরায়েলের দক্ষিণ ও উত্তর—দুই দিক থেকেই হামলার মুখে পড়তে হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সমন্বিত হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন আর একমুখী নেই। ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করে তুলছে।
ডিমোনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলা এবং একইসঙ্গে উত্তরে হিজবুল্লাহর রকেট নিক্ষেপ—এটি স্পষ্ট করে যে ইসরায়েল এখন বহু ফ্রন্টে চাপের মুখে পড়ছে।
সব মিলিয়ে, শনিবারের হামলাগুলো শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি বৃহত্তর সংঘাতেরই অংশ। ভবন ধস, আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং একাধিক স্থানে হামলা—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই সংঘাত কি আরও বিস্তৃত হবে, নাকি কূটনৈতিক কোনো সমাধান সামনে আসবে?

