বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটি বলছে, বিদেশি জাহাজগুলো এই পথ ব্যবহার করতে পারবে, তবে আগে ইরান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ইরানের প্রতিনিধি আলী মুসাভি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-তে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরান আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তারা নিজেদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপথকে নিরাপদ রাখতে ইরান অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কিন্তু যেসব দেশকে ইরান ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ সীমিত থাকতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার মতে, এসব দেশের কর্মকাণ্ডের কারণেই নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, এই জলপথে তেল ও গ্যাসবাহী বহু ট্যাংকার আটকে থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় ইরানের এই নতুন শর্তসাপেক্ষ অনুমতি আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান একদিকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে চায় না—এই বার্তাই দিতে চাচ্ছে তেহরান।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল ইরানের প্রস্তাবটি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, বিকল্প পথ না থাকায় হরমুজ প্রণালী সচল রাখা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। এখন দেখা বিষয়, পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের এই শর্ত মেনে জাহাজ পরিচালনায় এগোয় কি না।

