কলম্বিয়ার পুতুমায়ো প্রদেশে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ, সোমবার—একটি সামরিক পরিবহন বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়, যাতে অন্তত ৩৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮১ জন।
বিমানটিতে মোট ১২১ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ১১০ জন সেনা এবং ১১ জন ক্রু সদস্য। দুর্ঘটনাটি ঘটে পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকায়, যেখানে বিমানটি উড্ডয়নের মাত্র দুই কিলোমিটার অতিক্রম করার পরই হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি একটি খোলা মাঠে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। কাছাকাছি থাকা বনাঞ্চল ঘেরা এলাকাটি মুহূর্তেই আতঙ্কে ঢেকে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের মানুষজন দেরি না করে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পৌরসভার ডেপুটি মেয়র কার্লোস ক্লারোস জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সরঞ্জাম নিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন।
প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহতদের দ্রুত বড় হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়, যাতে তারা উন্নত চিকিৎসা পেতে পারেন।
কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা জানিয়েছেন, আহতদের দ্রুত স্থানান্তরের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত দুটি এয়ার-অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে সময় নষ্ট না করে গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ মডেলের এই বিমানটি উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। চারটি শক্তিশালী ইঞ্জিন থাকা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনা ঘটল—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বিমানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়াকে উপহার হিসেবে দিয়েছিল। ফলে এর রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি অবস্থা এবং সম্ভাব্য ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানের ব্ল্যাক বক্সসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুতই ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি সামরিক ক্ষতি নয়—এটি বহু পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন; আর যারা আহত, তারা এখনো জীবনের জন্য লড়াই করছেন।
কলম্বিয়া আজ শোকাহত। আর পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে—এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পেছনের আসল কারণ কী, সেটি জানার জন্য।

