ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান যে কতটা বিস্তৃত আকার নিয়েছে, তারই একটি চিত্র তুলে ধরেছে দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ভেতরে ৯ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে মূলত সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে। তাদের দাবি, অত্যন্ত নিখুঁত নিশানার আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহার করে এসব আক্রমণ পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা যায়।
শুধু স্থলভাগ নয়, ইরানের নৌবাহিনীতেও এই হামলার প্রভাব স্পষ্ট। সেন্টকমের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৪০টি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের আক্রমণ ইরানের সামরিক সক্ষমতায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে সমুদ্রপথে তাদের কার্যক্রমে।
এদিকে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা।
সেন্টকম স্পষ্ট জানিয়েছে, আলোচনা চললেও সামরিক অভিযান থেমে নেই। বরং তারা আক্রমণাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা অব্যাহত থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী “প্রিসিশন মিউনিশন” ব্যবহার করে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে। তাদের দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ভুলভাবে টার্গেট নির্বাচন করে হামলা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখনো থামার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। একদিকে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামরিক অভিযান।
পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে এটা স্পষ্ট—এই সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর পড়ছে।

