আনবার প্রদেশ-এর পশ্চিমাঞ্চলে ভোরের নীরবতা ভেঙে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সংঘটিত এই হামলায় শিয়া আধাসামরিক জোট পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে আনবার অপারেশনস কমান্ডার সাদ আল-বাইজি-সহ অন্তত ৬ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই হামলা চালানো হয় যুদ্ধবিমান থেকে, যেখানে পিএমএফের একটি কমান্ড সদর দপ্তরকে নিখুঁতভাবে টার্গেট করা হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘাঁটির একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই পিএমএফ এক বিবৃতিতে তাদের কমান্ডার সাদ আল-বাইজির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং এই হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-কে দায়ী করে। সংগঠনটির অভিযোগ, তাদের যোদ্ধারা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় থাকাকালীন কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, পিএমএফ—যা স্থানীয়ভাবে “হাশদ আল-শাবি” নামেও পরিচিত—মূলত শিয়া আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট, যা বর্তমানে ইরাক-এর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করছে। এই জোটের অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরান-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বিরোধের জেরেই এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন শুধু নির্দিষ্ট দেশের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ক্রমেই বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

