মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ওই অঞ্চলের নয়টি দেশের ৪০টিরও বেশি জ্বালানি কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থার বরাত দিয়ে জানা যায়, এই ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং সংঘাত শেষ হলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। সূত্র: আনাদোলু
আইইএ-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, “ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে বেশ সময় লাগবে। তিন সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে। বিশেষ করে মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ।”
তিনি আরও বলেন, “এ সংকটের মাত্রা ১৯৭০-এর দশকের দুইটি বড় তেল সংকট এবং ২০২২ সালের প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের সম্মিলিত প্রভাবের সমান। এখন শুধু তেল বা গ্যাস নয়, বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলোও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”
ফাতিহ বিরোল বিশেষভাবে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই দেশগুলো জ্বালানি চাহিদার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “প্রতিটি দেশই প্রথমে নিজস্ব স্বার্থ দেখে। কিন্তু কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া রফতানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও অস্থির হয়ে পড়বে।”
জ্বালানি সরবরাহ সংকট সামাল দিতে আইইএ জরুরি রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে অতিরিক্ত রিজার্ভ থেকেও তেল সরবরাহ করা হতে পারে। তবে বিশ্বের জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। জলপথটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। মার্চের শুরু থেকে জলপথটি কার্যত অচল, যার ফলে জাহাজ চলাচলের খরচ বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ায় এই জ্বালানি সংকট আরও গভীরতর হয়েছে।

