ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষের প্রভাবে ফিলিপাইনে জেট ফুয়েলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দেশের বিমান পরিষেবা অচিরেই স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জেআর স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার এক সাক্ষাৎকারে জানান, চলমান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি সরবরাহ ক্রমশ সংকীর্ণ হচ্ছে। আমরা আগে যেসব দেশ থেকে জেট ফুয়েল কিনতাম, তারা এখন বিক্রি করতে আগ্রহী নয়। এতে আমাদের বিমান সংস্থাগুলোকে সীমিত মজুতের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যদি এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।” ফিলিপাইন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, তেমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। তবে যুদ্ধ স্থায়ী হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিকল্প কমে যাবে।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই দশকের মত দ্বন্দ্ব রয়েছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি দু’দেশের প্রতিনিধি আলোচনায় বসলেও ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো চুক্তি না করে সংলাপ শেষ হয়। এর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়।
যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগর অবরোধ করে ঘোষণা দেয়, যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্র দেশের কোনো জাহাজে হামলা চালানো হবে। ব্রিটেনের সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে এ হামলা পরিচালিত হয়েছে।

