মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতা, অন্যদিকে ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই উত্তেজনার মাঝেই এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন আইজাক হারযেগ । হঠাৎ করেই এলাকায় আঘাত হানে ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ।
এই আকস্মিক হামলায় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, উপস্থিত সাংবাদিকদের রেখেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াতে শুরু করেন প্রেসিডেন্ট। তার দেহরক্ষীরা দ্রুত তাকে ধরে নিকটস্থ বাঙ্কারে নিয়ে যান। পুরো ঘটনাটি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কিরিয়াত শমোনার মতো সংবেদনশীল এলাকায় প্রেসিডেন্টের এমন পরিস্থিতিতে পড়া ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত যেখানে নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—এ প্রশ্নও উঠছে।
ইরান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ক্রমেই আরও নিখুঁত ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বহুল প্রচারিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ইরানের নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। ফলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তায় ঘেরা। প্রতিদিনের নতুন হামলা ও পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

