ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইতোমধ্যেই জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধ এত দ্রুত জয় হয়ে যাওয়ায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কিছুটা হতাশ হয়েছেন।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা বিজয়ী হয়েছি। আমরা তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছি, বিমানবাহিনী ও অস্ত্রভাণ্ডারে আঘাত করেছি এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছি।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরছে না।
নিজ বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে কার্যত নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমান নেতৃত্ব আগের তুলনায় ভিন্ন। তিনি জানান, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার যোগাযোগ রাখছেন।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও পৃথক সামরিক অভিযান চালায়।
এই যৌথ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌর। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাও ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান।
এর মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগের খবর পাওয়া গেছে। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ১৫ দফা প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মাধ্যমে সেই প্রস্তাব তেহরানে পৌঁছেছে বলেও জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের দাবি, অন্যদিকে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা এবং শান্তি প্রস্তাব—এই সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো জটিল রয়ে গেছে। যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

