ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নতুন ধাপ শুরু করেছে রাশিয়া। এক দিনে ৯৪৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করে দেশটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আকাশ হামলাগুলোর একটি চালিয়েছে। একই সঙ্গে সামনের যুদ্ধরেখায় সৈন্য ও ভারী সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে, যা নতুন বড় আক্রমণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মঙ্গলবার দিনের বেলায় চালানো বিরল এই হামলায় পশ্চিম ইউক্রেনের ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক শহরে দুইজন এবং ভিন্নিৎসিয়া অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দিনের আলোয় জনবহুল এলাকায় এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলেছে।
পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর লভিভেও ড্রোন হামলার ভয়াবহতা দেখা গেছে। একটি ড্রোন শহরের ঐতিহাসিক এলাকায় একটি পুরোনো ভবনে আঘাত হানে, যা একটি গির্জার পাশেই অবস্থিত। এতে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ওই এলাকায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনারও ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো জানিয়েছেন, দিনের বেলায় জনবহুল শহরের কেন্দ্রস্থলে এ ধরনের হামলা চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।
এর আগে রাতভর চালানো হামলাতেও দেশটির ১১টি অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পোলতাভা অঞ্চলে দুইজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া জাপোরিঝিয়া, খেরসন এবং খারকিভ অঞ্চলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও মিত্র দেশগুলোর কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরান যুদ্ধের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
জেলেনস্কি বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে এ ধরনের হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে পূর্ব ইউক্রেনেও তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সেনারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিরক্ষা ভেদ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত চার দিনে ৬১৯টি হামলা চালানো হয়েছে এবং তার মোকাবিলায় ইউক্রেন অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া প্রতি বছর বসন্তকালে আক্রমণের গতি বাড়ায়। বরফ গলে যাওয়ার পর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তখন যুদ্ধ পরিচালনা সহজ হয়। এবারও সেই ধারা অনুসরণ করে নতুন করে বড় আক্রমণ শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও রাশিয়া ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে, তবুও বড় শহরগুলো দখল করতে পারেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা ধীরে ধীরে গ্রামীণ এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছে।
সব মিলিয়ে, নতুন এই আক্রমণ ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আকাশপথে ব্যাপক হামলা, স্থলযুদ্ধে চাপ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সামনে আরও বড় সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।

