মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। পেন্টাগন আরও কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপের মধ্যে থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষিত ৮২তম ডিভিশনের সেনারা, যারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিযান চালাতে সক্ষম। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একাধিক সূত্র মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে বলছেন, ঠিক সেই সময়ে এই পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ফলে ভবিষ্যতে ইরানি ভূখণ্ডে কোনো প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালানোর পথ আরও সুগম হবে। তবে সেনাদের ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হবে বা কখন পৌঁছাবে, তা এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। তারা বর্তমানে উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থান করছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, প্রেসিডেন্টের হাতে সবসময় সামরিক বিকল্প খোলা রয়েছে। তবে সরাসরি ইরানের ভেতরে সেনা পাঠানোর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। মূল উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। পেন্টাগন তিন থেকে চার হাজার সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে।
এই পদক্ষেপের পূর্বসূরী হিসেবে গত ২০ মার্চ রিপোর্টে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার নৌ সেনা পাঠাচ্ছে। ‘ইউএসএস বক্সার’ নামক একটি যুদ্ধজাহাজ, মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটসহ আরও কিছু যুদ্ধজাহাজ ওই বহরে যুক্ত ছিল। নতুন বাহিনী পাঠানোর আগে ওই অঞ্চলে মোট ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত করার ঠিক একদিন পরই এই খবর প্রকাশিত হলো। ট্রাম্প তখন জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনা হয়নি।
ইরানের বিরুদ্ধে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ২৯০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক, বাকি ২৫৫ জন পুনরায় দায়িত্বে ফিরেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য মূলত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের খার্গ দ্বীপে সেনা পাঠানোর বিষয়ও আলোচনার মধ্যে রয়েছে। এই দ্বীপ থেকে দেশের মোট তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয়।
মার্কিন জনগণের মধ্যে এই অভিযানের সমর্থন সীমিত। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন যুদ্ধে জড়াবেন না। তাই সীমিত সময়ের জন্য হলেও ইরানে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত তার জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে সামরিক হামলার পক্ষে, যেখানে ৬১ শতাংশ বিরোধী। গত সপ্তাহের তুলনায় সমর্থন কমেছে, বিরোধিতা বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই পদক্ষেপ এবং চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

