মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের চেয়েও বেশি ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর ধাক্কা বিশ্বব্যাপী গভীরভাবে অনুভূত হতে পারে।
বুধবার স্পেনের পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে সানচেজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, বিশ্ব এমন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
তিনি এই যুদ্ধকে “অযৌক্তিক ও অবৈধ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং এটি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, সমাজ এবং পরিবেশগত অগ্রগতিকে বড় ধরনের বাধার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
স্পেন সরকার ইতোমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে সানচেজ বলেন, সেই যুদ্ধ তার ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ওই সময় জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল, অভিবাসন সংকট তীব্র হয়েছিল এবং ইউরোপে সহিংস হামলার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় স্পেন সরকার ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। গত সপ্তাহে তারা প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো সমমূল্যের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে জ্বালানির ওপর কর কমানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়।
সানচেজ স্পষ্টভাবে বলেন, এই যুদ্ধের খেসারত স্পেন বা ইউরোপের সাধারণ মানুষের দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, এমন একটি সংঘাতের দায়ভার নিরীহ জনগণের ওপর চাপানো অন্যায়।
ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি এখনও স্পেনের রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। সেই সময় রক্ষণশীল সরকারের ইরাকে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপেও দেখা গেছে, স্পেনের অধিকাংশ মানুষ বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রায় ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ নাগরিক সমর্থন জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে ইউরোপেও উদ্বেগ বাড়ছে। নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু অর্থনীতিতেই নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

