যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। হঠাৎ করে কোনো যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল।
জর্ডানের আম্মান থেকে পাওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে ইসরায়েলি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐক্যের বার্তা দিলেও, পর্দার আড়ালে তারা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হোয়াইট হাউসের আকস্মিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষ করে, সম্ভাব্য যুদ্ধের পর ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকবে কি না—এই প্রশ্নটি ইসরায়েলের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের আশঙ্কা, একটি দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য অর্জন অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত ইসরায়েলের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। লক্ষ্য—যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আগেই কৌশলগত স্থাপনাগুলোর ওপর সর্বোচ্চ আঘাত হানা।
এদিকে হোয়াইট হাউসের কূটনৈতিক তৎপরতায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ইসরায়েল মনে করছে, যেকোনো সময় একটি আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে। এই পরিস্থিতি শুধু ইরান নয়, লেবাননে হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনাকেও প্রভাবিত করছে।
সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রিজার্ভ সেনার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল সরকার। বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার রিজার্ভ সেনা থাকলেও তা বাড়িয়ে ৪ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশাল এই সেনা সমাবেশ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এরই মধ্যে লেবানন সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চললেও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েল।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এখনো অনড় থাকায় শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সব সম্ভাবনা মাথায় রেখে ইসরায়েল সময়কে কাজে লাগাতে চাইছে। তাদের মূল লক্ষ্য—ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থানকে দুর্বল করা।

