যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংলাপ চলছে না, বরং শুধু বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে—এমনটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আলোচনার দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, বাস্তবে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিল, অথচ এখন তারাই আবার আলোচনার কথা বলছে—যা তাদের অবস্থানের দ্বৈততা তুলে ধরে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নীতি হলো প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা। “এই মুহূর্তে আলোচনায় বসার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই,”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যুদ্ধ চলাকালীন সংলাপে আগ্রহ দেখানো মানেই দুর্বলতার ইঙ্গিত দেওয়া।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং তা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—ইরান যদি শান্তি চুক্তিতে না আসে, তাহলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে।
তবে এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করে আরাগচি বলেন, বাস্তবে যা চলছে তা হলো বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ১৫ দফার একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছেছে এবং সেটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরানের নেতৃত্ব।
আরাগচির ভাষায়, প্রস্তাবটিতে নানা ধরনের ধারণা ও প্রস্তাবনা রয়েছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা সংলাপ বলা যাবে না। “এটি কেবল বার্তা বিনিময়—এর বেশি কিছু নয়,”—তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যারা এই মুহূর্তে আলোচনার কথা বলছে, তারা মূলত নিজেদের দুর্বলতা বা ব্যর্থতা ঢাকতে চেষ্টা করছে। তার মতে, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে এমন অবস্থান তৈরি করেছে, যা তাকে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করেছে এবং বাইরের কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করার প্রয়োজন নেই।
সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে যুদ্ধ শেষ হলে ইরান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে, এমনকি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকেও কোনো ধরনের স্বীকৃতি বা গ্যারান্টি আসতে পারে। তবে তার আগেই ইরান নিজস্ব সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমে একটি শক্ত প্রতিরক্ষা অবস্থান গড়ে তুলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান তা অস্বীকার করে নিজেদের প্রতিরোধ কৌশল অব্যাহত রাখার কথা বলছে। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে, এবং যুদ্ধের পাশাপাশি বার্তা আদান-প্রদানের এই নীরব কূটনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

