যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে রাশিয়া— এমন দাবি উঠেছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্র থেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন, এমনকি খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জামও।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই— অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে— রাশিয়া নীরবে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কোথায় কোথায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ বা কৌশলগত স্থাপনা রয়েছে— এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই তথ্যগুলো ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো ব্যবহার করে তারা তাদের হামলার পরিকল্পনা আরও নিখুঁতভাবে সাজাতে পারছে।
এর পাশাপাশি, রাশিয়া শুধু তথ্য দিয়েই থেমে থাকেনি। একই সূত্রগুলো বলছে, ইরানে ড্রোন, খাদ্য এবং ওষুধ পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। চলতি মার্চ মাসের শেষ নাগাদ ড্রোনের প্রথম চালান পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সহযোগিতা আসলে নতুন কিছু নয়। ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানি তৈরি ড্রোন ব্যবহার করছে রাশিয়া। শুধু তাই নয়, ওই সময় থেকেই রাশিয়ার ভেতরেই ইরানি প্রযুক্তিতে ড্রোন উৎপাদনের কাজও শুরু হয়।
তাই অনেকের মতে, এখন ইরানকে সহায়তা করা সেই সম্পর্কেরই একটি ধারাবাহিকতা।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরাসরি কিছু স্বীকার করা হয়নি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে চারপাশে অনেক ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে তিনি এটুকু স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে রাশিয়ার নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, যদি রাশিয়ার সরাসরি বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে, তাহলে এই যুদ্ধ আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে আরও বড় শক্তির সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

