ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বর্তমানে একাধিক ফ্রন্টে চাপ সামলাতে গিয়ে গুরুতর সংকটে পড়েছে বলে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক মহল থেকে সতর্কবার্তা এসেছে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকা, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্লান্তি এবং সুস্পষ্ট কৌশলের অভাব—এই তিনটি বিষয় পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব সরকারকে জানিয়েছে যে বাহিনীটি সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে কাজ করছে। সংরক্ষিত সেনাদের বারবার ডিউটিতে ডাকা হচ্ছে, ফলে তাদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা টানা কয়েক দফা দায়িত্ব পালন করছেন, যা সামগ্রিক কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।
সামরিক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবানন সীমান্ত, গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর এবং সিরিয়া—এই চারটি অঞ্চলে একসঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদারে অতিরিক্ত সেনা প্রয়োজন হচ্ছে, যা বিদ্যমান জনবল দিয়ে পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, পরিষ্কার পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া সেনাবাহিনীকে একাধিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এতে সেনাদের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও উঠছে।
সংকট মোকাবিলায় নতুন করে সেনা নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। এতদিন তারা ধর্মীয় শিক্ষার কারণে এই দায়িত্ব থেকে ছাড় পেয়ে এলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান উঠেছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলে সাধারণ নাগরিকদের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক। তবে বিশেষ কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়মের বাইরে রয়েছে। এখন চলমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে সেই ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার চাপ বাড়ছে।

