মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে, যা ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শনিবার ভোরে এই হামলার খবর সামনে আসে। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে নানা সূত্রে আলোচনা চললেও পরে হুতি বিদ্রোহীরাই আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করে। এর ফলে স্পষ্ট হয়ে যায়, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে, যা ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে আসছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, আর এর মধ্যেই ইয়েমেন থেকে হামলার বিষয়টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এলো। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পুরো সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে।
হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন, ইরান, ইরাক ও ফিলিস্তিনে বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা এবং বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে হুতিরা জানায়, তাদের এই সামরিক অভিযান কেবল শুরু। “ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রতিরোধের বিভিন্ন ফ্রন্টের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে”— এমন সতর্ক বার্তাও দেয় তারা।
এই ঘটনার আগের দিন শুক্রবারও পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তেল আবিবে অন্তত পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর ফলে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টানা সক্রিয় ছিল এবং বারবার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজতে থাকে।
সব মিলিয়ে, হুতিদের এই প্রথম সরাসরি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলছে। এখন প্রশ্ন উঠছে— এই সংঘাত কি শুধুই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ধীরে ধীরে আরও দেশ ও গোষ্ঠী এতে জড়িয়ে পড়বে?
বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

