মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জার্মানির বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডয়চে ব্যাংক সতর্ক করেছে, ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বে মার্কিন ডলারের আধিপত্য দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
ব্যাংকটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার ভিত্তিই এখন চাপে পড়েছে। এই ব্যবস্থার মূল ধারণা হলো—বিশ্ববাজারে তেল লেনদেন প্রধানত ডলারে হবে এবং তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো সেই অর্থ আবার যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করবে।
এই কাঠামোর সূচনা হয় ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে। এর আওতায় উপসাগরীয় দেশগুলো ডলারে তেল বিক্রি করে এবং বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বর্তমানে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ বিপুল পরিমাণ মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ধারণ করে আছে এবং অনেক দেশ তাদের মুদ্রার মান ডলারের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।
তবে ডয়চে ব্যাংকের মতে, এই ব্যবস্থার মূল শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। এখন যদি চলমান সংঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে সেই আস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয়। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি এই রুটে ঝুঁকি বাড়ে এবং তেলনির্ভর অর্থনীতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তারা ডলারে রাখা সম্পদ কমানোর দিকে যেতে পারে।
এদিকে, রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের–এর পর থেকেই বিকল্প মুদ্রায় জ্বালানি লেনদেনের প্রবণতা বাড়ছে। চীন ইতোমধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে ইউয়ান ও রুবলে জ্বালানি কিনছে। একইভাবে ইরানের তেলের বড় অংশও চীনে যাচ্ছে, যা ডলারের বাইরে লেনদেনের প্রবণতাকে শক্তিশালী করছে। ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান ইরান সংঘাত ভবিষ্যতে ‘পেট্রোইউয়ান’ ব্যবস্থার পথ তৈরি করতে পারে, যা ডলারের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন জ্বালানিতে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নির্ভরতা কমেছে। তাঁর মতে এই রুটের গুরুত্ব এখন ইউরোপ ও এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোর জন্য বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

