ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার এক মাসের মাথায় দেশটি একটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান (এইচআরএ) নামক স্বাধীন সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে অন্তত ১,৪৪৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ২১৭ জন শিশু।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ মার্চ ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন। এক দিনে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৪০০ হামলায় ২৫২ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। লন্ডনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘এয়ারওয়ার্স’ জানিয়েছে, হামলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ আহতও হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল হাসপাতাল, স্কুল এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা।
এইচআরএ জানিয়েছে, নিশ্চিত হওয়া হামলার প্রায় ৩৭% তেহরানের শহরাঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬০টি হাসপাতাল, ৪৪টি স্কুল এবং ১২৯টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী ১৬,০০০-এর বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ৫৪৩টি হামলায়, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে, ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নও বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯ মার্চ পর্যন্ত অন্তত ১,৮৩০ জনকে যথেচ্ছভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ মাত্র ১% রূপে সীমিত হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ক্ষতি হচ্ছে।
হামলার জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে বেসামরিক হতাহত এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সংঘাত শুধুই মধ্যপ্রাচ্য নয়, এটি আন্তর্জাতিক বাজার এবং বিমান চলাচলেও বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

