ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনের হুথিরা ইসরায়েলের ওপর প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হামলাটি প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে একটি ইয়েমেনি গোষ্ঠী বলেছে, তারা তেহরান ও এই অঞ্চলের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনে পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্র: ‘মিডল ইস্ট আই’
এক মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম শনিবার ইয়েমেনের হুথিরা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
একটি ভিডিও বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
“আমরা- অধিকৃত ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত সংবেদনশীল ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝাঁক ব্যবহার করে প্রথম সামরিক অভিযান চালিয়েছি,” সারি বলেন।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা “ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে এবং এই হুমকি প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।”
ইসরায়েলে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এই সপ্তাহের শুরুতে হুথিরা হুমকি দিয়েছিল, যদি তাদের মিত্র ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকে এবং অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে যোগ দেয়, তবে তারা এই সংঘাতে যুক্ত হবে। তারা লোহিত সাগরকে “শত্রুতাপূর্ণ অভিযানের” জন্য ব্যবহার করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে।
শনিবার সারি বলেন, হুথিদের হামলাগুলো ইরান এবং “লেবানন, ইরাক ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলোর” সমর্থনে চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রতিরোধের সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত” এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার কয়েকদিন পর হুথিরা লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হামলা চালিয়ে যুদ্ধে যুক্ত হয় এবং এটিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করে।
১৮ মাসে হুথিরা ২৫০টিরও বেশি সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা ইসরায়েলের ওপর থেমে থেমে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে।
লোহিত সাগরের এসব হামলায় বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে ইউরোপ থেকে এশিয়াগামী জাহাজগুলো লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর হয়ে যাওয়া সুয়েজ খালপথ এড়িয়ে চলতে শুরু করে।
এর পরিবর্তে তারা আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কেপ অব গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ বেছে নেয়।
এর ফলে দুই বছরে এডেন উপসাগরে সামুদ্রিক যান চলাচল ৭০ শতাংশ কমে গেছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায়—যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়—লোহিত সাগরের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
সৌদি আরব তার তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে সরিয়ে নিয়েছে।

