মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের এক মাস পার হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এ নিয়ে জনঅসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও যুদ্ধের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিন্তু এসবের পরও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। একটি জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের বিপক্ষে, যেখানে সমর্থন রয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশের। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তাও কমে প্রায় ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বনিম্ন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
কংগ্রেসে অচলাবস্থা
যুদ্ধ সীমিত করতে প্রস্তাবিত ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ বিল সিনেটে আবারও পাস হয়নি। ভোটাভুটিতে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে দুই প্রধান দলের সদস্যরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। ফলে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ বহাল রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব আনার সম্ভাবনা থাকলেও দলীয় নেতৃত্ব তা নিয়ে এগোতে অনীহা দেখিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিতে দ্বিধায় রয়েছেন।
অর্থনৈতিক প্রভাব
যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি জনজীবনে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে, যা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করবে।
কৌশল ও অনিশ্চয়তা
যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়নি। একদিকে প্রশাসন ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার কথা বলছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই সংঘাত ধীরে ধীরে ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদে এক ধরনের স্থবির পরিস্থিতি তৈরি হবে।
রাজনৈতিক বিভাজন
শাসক দলের বেশিরভাগ সদস্য এখনো সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করলেও, কিছু সদস্য যুদ্ধের ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিরোধী দলও পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে পারেনি, ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে।
জনমতের বিরোধিতা ক্রমেই বাড়লেও রাজনৈতিক বিভাজন ও অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই যুদ্ধ থেকে সরে আসার কোনো সুস্পষ্ট পথ খুঁজে পাচ্ছে না। যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং এর প্রভাব ভবিষ্যতে কতটা গভীর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

