মার্কিন স্থল সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে ইরানি বাহিনী—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
গালিবাফ বলেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে স্থল যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—যা তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
তবে ইরানে স্থল অভিযান চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসের শুরুতে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছেন না। তবে প্রয়োজনে এমন সিদ্ধান্ত নিলে তা আগেভাগে জানানো হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, স্থল সেনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে। এই রণতরীর নেতৃত্বে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নৌ ও মেরিন সেনা অবস্থান করছে, যা সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাবেও আস্থাহীনতা প্রকাশ করা হয়েছে। গালিবাফ বলেন, আলোচনার কথা বলা হলেও বাস্তবে ভিন্ন পরিকল্পনা চলছে।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের নীতিতে পশ্চিমা প্রভাবের বিরোধিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। এর আগে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চলছিল। অতীতেও আলোচনা চলাকালীন সময়ে হামলার ঘটনা ঘটায় ইরানের মধ্যে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর থেকে নতুন কোনো চুক্তিকে তারা বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। একদিকে সামরিক প্রস্তুতি, অন্যদিকে আলোচনার অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে সংঘাত যে আরও জটিল দিকে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

