ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বিশাল অঙ্কের বাজেট অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে দীর্ঘ আলোচনা ও বিরোধীদের বাধা পেরিয়ে এই বাজেট পাস হয়।
মোট ৮৫০ দশমিক ৬ বিলিয়ন শেকেলের এই বাজেট দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড়। এর বড় একটি অংশই রাখা হয়েছে প্রতিরক্ষা খাতে, যেখানে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ভোটাভুটির সময় পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। কয়েক দফা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতায় সাইরেন বাজলে সংসদ সদস্যরা সুরক্ষিত কক্ষে আশ্রয় নিয়ে ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ৬২ জন পক্ষে এবং ৫৫ জন বিপক্ষে ভোট দিয়ে বাজেটটি পাস হয়।
এই বাজেটে শুধু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্যই ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই বাজেটকে ‘বিজয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এটি ইসরায়েলকে শত্রু মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী করবে।
তবে এই বাজেট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। বাজেটের অর্থ জোগাতে প্রতিরক্ষা ছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৩ শতাংশ কমানো হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ থাকলেও বিরোধীদের অভিযোগ—এটি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াবে।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে কট্টর ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ নিয়ে। বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এই পদক্ষেপকে ‘রাষ্ট্রীয় চুরির মহোৎসব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, যুদ্ধের সময় জনগণ যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তখন সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, এসব ধর্মীয় গোষ্ঠী বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির দাবি তুলেছে, যা ইসরায়েলি সমাজে নতুন করে বিভক্তি তৈরি করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও এই বাজেটকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছেন, এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বাজেট। তাঁর মতে, যুদ্ধের সময় যেখানে ব্যয় কমানোর প্রয়োজন, সেখানে সরকার উল্টো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত খরচ করছে।
এছাড়া পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এই বাজেট পাসের ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার আপাতত টিকে গেল। কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজেট পাস না হলে সংসদ ভেঙে যেত এবং আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো।
সরকার বলছে, নতুন এই বাজেট তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।

