গত ২৬ মার্চ, হোয়াইট হাউসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন, যেখানে মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। বৈঠকে তিনি দাবি করেন যে, ইরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র লন্ডন, প্যারিস এবং বার্লিনের মতো ইউরোপের বড় শহরগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর পরপরই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা শুরু হয়, এবং বিশেষ করে ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইউরোপীয় দেশগুলোকে নতুন সংকটের সম্মুখীন করে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: নতুন হুমকি
ইরান যে তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করছে, তা আর নতুন কিছু নয়। বিশেষত, গত ২০ মার্চ, ইরান দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের ব্রিটিশ-মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই দ্বীপ ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরেও এ ঘটনায় একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বব্যাপী অনেক দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে হামলার পর, ব্রিটিশ সরকার নিশ্চিত করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে, তেহরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে: ইউরোপ, এশিয়া, এবং আফ্রিকার জন্য তার ক্ষেপণাস্ত্র এখন বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, লন্ডন, প্যারিস এবং বার্লিনের মতো শহরগুলো এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউরোপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে শুরু করেছে। মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ উল্লেখ করেন, “তেহরান এখন একটি বৈশ্বিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে,” যার অর্থ, ইরান যে কোনও সময় ইউরোপে আঘাত হানতে সক্ষম। এমনকি, ২৪ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে, “ইউরোপ তাদের হাতের নাগালে।”
তবে, এখানেই শেষ নয়। ২৭ মার্চ ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, লন্ডন এবং প্যারিসের মতো শহরগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসীমায় রয়েছে। এই তথ্যগুলো বিশ্বব্যাপী শঙ্কা বাড়িয়েছে, কারণ এর আগে কেউই মনে করেনি যে, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এতটা দূর পর্যন্ত আঘাত করতে সক্ষম।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা এবং এর সম্ভাব্য পরিসীমা
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ রয়েছে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এতটা দূর যেতে সক্ষম, এটা ছিল অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য। আগে পর্যন্ত, কেউই এই ধারণা করেনি যে, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এতটা এগিয়ে নিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে, ইরান যে ইউরোপে আঘাত হানতে সক্ষম, সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির দিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ এখন আরও বেড়েছে।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, “ইরান এখনো আমাদের জন্য তেমন কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি।” তবে, এটা যে পরিস্থিতি বদলাতে পারে, তা আর অস্বীকার করা যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লন্ডনে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও, তা অনেক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে হবে। যুক্তরাজ্য বর্তমানে ন্যাটোর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত রয়েছে, যা কিছুটা হলেও ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের পরমাণু হুমকি
এদিকে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ইরান যে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। যদিও ইরান দাবি করে যে, তার পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, তবুও যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে বেশ চিন্তিত। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
বিশ্বের বড় বড় শহরগুলো এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার প্রতি গভীরভাবে নজর রাখছে। বিশেষ করে, লন্ডন, প্যারিস এবং বার্লিনের মতো শহরগুলো যে এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়, তা খুব স্পষ্ট। এদিকে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে, এই ঘটনাগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক চ্যালেঞ্জের সূচনা করেছে, যা সামগ্রিকভাবে ভবিষ্যত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে।

