ইরান যুদ্ধের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সৌদি, তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদ ছেড়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) আলজাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, “বর্তমান সংকট সমাধানে একমাত্র কার্যকর পথ হল সংলাপ এবং কূটনীতি।”
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে, চারটি দেশ অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাঠামোগত আলোচনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।
ইসহাক দার জানান, তিনি তার সমকক্ষদের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ আয়োজনের বিষয়ে অবহিত করেছেন, এবং সফররত মন্ত্রীরা এই উদ্যোগে ‘পূর্ণ সমর্থন’ জানিয়েছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত চারপক্ষীয় বৈঠকের পর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্মান জানিয়ে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টার ওপর তাদের আস্থাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। এতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত প্রশমনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া।
এক্সে (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তিনি সৌদি আরবের ‘সংযম’ এবং মুসলিম উম্মাহতে দেশটির নেতৃত্বের ভূমিকাকে প্রশংসা করেন।”
তিনি আরও বলেন, “আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অর্জনে পাকিস্তান এবং সৌদি আরব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও আমি সন্তুষ্ট।”
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “ইরানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে চলমান সংঘাত জীবনের ক্ষতি, অর্থনীতির ক্ষতি এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করছে। তাই দ্রুত এই সহিংসতা বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।” তিনি তুরস্ক এবং মিসরের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেছেন এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তান ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।
বৈঠক শেষে, পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। একইসাথে পাকিস্তান শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

