জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা গতকাল তার কূটনৈতিক দায়িত্ব স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পদত্যাগ নোটিশে তিনি দাবি করেছেন, জাতিসংঘ ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং তিনি এই তথ্য প্রকাশ করতে গিয়ে তার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছেন।
সাফা তার পদত্যাগ নোটিশে বলেন, “আমি মনে করি না মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে, কারণ জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তেহরান প্রায় এক কোটি মানুষের শহর এবং তিনি এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ না হতে চাইলে, নিজে থেকে পদত্যাগ করেছেন। “নিউক্লিয়ার উইন্টার ঘটার আগেই তা ঠেকাতে আমি আমার দায়িত্ব স্থগিত করেছি,” বলেন তিনি।
এর আগে, ইরান যুদ্ধে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালখিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে পারমাণবিক ঘটনা, এটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি চিন্তিত করছে। আমরা যতটা প্রস্তুতি নিই না কেন, ক্ষতি ঠেকানোর কিছু নেই।”
সাফা আরো অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি ‘শক্তিশালী লবির’ স্বার্থ রক্ষায় ভিন্নমত দমন করছেন। তিনি বলেন, “গাজায় যা ঘটছে তাকে গণহত্যা, লেবাননে যা ঘটছে তাকে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নির্মূলকরণ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন” হিসেবে মানতে অস্বীকার করছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এছাড়া, সাফা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ভিন্নমত প্রকাশের জন্য তিনি নিজের এবং পরিবারের জন্য মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। “ভুয়া প্রচারণা” চালিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, দাবি করেছেন তিনি। তিনি জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান, এবং বলেন, “একমাত্র জনগণই এটা ঠেকাতে পারবে।”
মোহামাদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে পিভিএর নির্বাহী পরিচালক এবং ২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘের ইকোসকে বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদাপ্রাপ্ত সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন। তার পদত্যাগের পেছনে যে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে, তা স্পষ্ট।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতির কথা বললেও, সাফা এবং অন্যান্য কূটনীতিকদের দাবি, এই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের আগে প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় নেই।

