যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ (No Kings) বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আগ্রাসী অভিবাসন নীতি এবং ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শনিবার বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামেন। এই প্রতিবাদে ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসন্তোষ এবং গণতন্ত্রের প্রতি সমর্থন জানানো হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩,২০০টি কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল। যদিও নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ডালাস এবং ফিলাডেলফিয়ায় বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র ছিল ছোট শহর ও উপশহরগুলো, যেখানে আন্দোলন আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
আয়োজকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার ছোট শহর ও উপশহরগুলোতে অংশগ্রহণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
মিনেসোটার সেন্ট পলে অনুষ্ঠিত এক বড় সমাবেশে গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চেতনার ‘প্রাণ ও আত্মা’। একই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, “আমরা এই দেশকে স্বৈরাচার বা ধনিকতন্ত্রে পরিণত হতে দেব না।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, বর্তমান প্রশাসন দেশের গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডালাসে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পাল্টা বিক্ষোভকারীরা তাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল ভবনের কাছে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আন্দোলনের তীব্রতা ও বিস্তারকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই আন্দোলন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে ৩৬ শতাংশে নেমে গেছে, যা তার বর্তমান মেয়াদের সবচেয়ে কম। এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভের জোরাল উপস্থিতি এবং ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে, বিক্ষোভে সমর্থন দেওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেছে ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেশনাল কমিটি। তারা দাবি করেছে যে, এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দেশের পরিস্থিতি আরও অস্থির করছে।

