বিহারের নালন্দা জেলার বিহার শরিফের শীতলাষ্টমী মন্দিরে পূজা দেওয়ার সময় বিপুল ভিড়ের চাপে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে মাঘরা গ্রামের শীতলাষ্টমী মন্দিরে, যা বিহার শরিফ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চৈত্র মাসের শেষ মঙ্গলবার হওয়ায় এদিন মন্দিরে দেবী শীতলার দর্শনের জন্য হাজার হাজার পুণ্যার্থী সমাগম করেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মন্দিরে ভিড় সামলানোর কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ভিড়ের চাপে মানুষ দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করলে, এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। অন্তত আটজন নারী মারা যান, এবং আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আসা চিত্রে দেখা যায়, অসংখ্য নারী মাটিতে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন, এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মমতা দেবী নামের এক পুণ্যার্থী জানান, প্রতি মঙ্গলবারেই এখানে ভিড় থাকে, তবে আজকের ভিড় ছিল অস্বাভাবিক।
প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থীরা। অবিনাশ কুমার নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “পূজা ও আচার অনুষ্ঠানগুলো ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু হঠাৎ কোনো একটি কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি শুরু হয়।”
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বার্তায় নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার কামনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পিএমএনআরএফ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারও এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ এবং নিহতদের পরিবারকে ৬ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া, বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এ ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন এবং জানান যে, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।
বর্তমানে মন্দির চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রশাসন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
এই দুর্ঘটনা পুরো নালন্দা জেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

