মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে, ইরান দাবি করেছে যে তারা ইসফাহান শহরের আকাশে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্য ইরানে অবস্থিত ইসফাহান শহরের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এমকিউ-৯ রিপার দূরপাল্লার মনুষ্যবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
আজ মঙ্গলবার ভোরে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক বিশাল সফলতার সাথে একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনকে ধ্বংস করেছে। এই ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। তারা বলেছে, ড্রোনটি তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল এবং ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী তা শনাক্ত করে প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে।
এটি ছিল ইরানের ভূপাতিত করা ১৪৬তম ড্রোন, এবং প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। এই ড্রোনটি ছিল এমকিউ-৯ রিপার, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি ও হামলার জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি অস্ত্র। ইরান দাবি করেছে যে তারা এই ড্রোনটিকে মার্কিন-ইসরায়েলি ‘আগ্রাসী শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এ ঘটনার পর, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে ইরান এবং পশ্চিমী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের মধ্যে। ইরান বারবার তাদের আকাশসীমা রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে এবং যে কোনো আক্রমণ প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন এবং ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই ঘটনার মাধ্যমে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন করেছে এবং ইরানের পক্ষ থেকে এমন আরও দাবি ভবিষ্যতে আসতে পারে।
এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, যেখানে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে ইরান তাদের সীমানার নিরাপত্তা নিয়ে আরো শক্তিশালী অবস্থান নিচ্ছে।
এই ভূপাতিত ড্রোনের ঘটনা আরও একটি ইঙ্গিত হতে পারে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়বে, যা পরবর্তী সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

