ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি রাশিয়াকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইস্টারের ছুটির সময় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইউক্রেনের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব কোনো অবস্থাতেই বিসর্জন দেওয়া হবে না। এ বছর অর্থোডক্স ইস্টার ১৬ এপ্রিল উদযাপিত হবে।
জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, “যারা জীবনকে সম্মান করে, তারা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো অবস্থাতেই ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করব না।”
এছাড়া, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখার জন্যও রাশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই পদক্ষেপটি বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে। গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৩০ ঘণ্টার একটি ইস্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তবে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল।
জেলেনস্কি মনে করেন, গত কয়েক দিনে ইউক্রেনের কিছু অজ্ঞাত অংশীদার দেশ রাশিয়াকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা থেকে বিরত থাকতে সংকেত দিয়েছে। তিনি বলেন, “যদি রাশিয়া তাদের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানতে বিরত থাকে, তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর কোনো হামলা চালাবে না।”
এখন পর্যন্ত রাশিয়া এই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে এটি স্পষ্ট নয় যে, পুতিন ইস্টারের সময়ে পুনরায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবেন কি না। রাশিয়া যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে তা একটি বড় পদক্ষেপ হবে, কারণ এর মাধ্যমে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তির একটি সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে।
বর্তমানে, ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তেলের বাজারে চাপ বেড়েছে, যা ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছে।
জেলেনস্কির প্রস্তাবের ফলে, ইউক্রেন ও রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যায়, তবে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না যে, রাশিয়া এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে, বিশেষ করে যখন যুদ্ধের পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত।

