রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৯ জন নিহত হয়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ এপ্রিল সকালে এই দুঃখজনক খবরটি জানানো হয়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তাস নিউজ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণ সাগরের কাছে ক্রিমিয়ার একটি পাহাড়ের চূড়ায়। এএন-২৬ মডেলের এই সামরিক পরিবহন বিমান ছিল পূর্বনির্ধারিত একটি ফ্লাইটে, যা ৩১ মার্চ রাত ৮টার দিকে রাডার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। বিমানে থাকা ৬ জন ক্রু এবং ২৩ জন সাধারণ যাত্রী সবাই নিহত হয়েছেন।
বিমানটি ক্রিমিয়া অঞ্চলের উদ্দেশ্যে উড়ছিল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিমানে থাকা যাত্রী সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে কোনো জীবিত উদ্ধার হওয়া বা বেঁচে থাকার খবর পাওয়া যায়নি। এটি রাশিয়ার জন্য একটি বিশাল ক্ষতি এবং দুর্ঘটনার গভীরতা সবার জন্য অত্যন্ত শোকের।
প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, আরআইএ নিউজ জানাচ্ছে, টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এএন-২৬ বিমানগুলো ১৯৬০ সালের দশক থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে, এবং এসব বিমান মালবাহী পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে, এই মডেলের বিমানগুলোর বিধ্বস্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এর আগে এএন-২৬ মডেলের একাধিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনা ছিল।
গত কয়েক বছরে এএন-২৬ মডেলের বিমানগুলোর আরেকটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালে ইউক্রেন একটি এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়, যার ফলে একজন নিহত হন। তবে, ২০২০ সালে আরেকটি এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৬ জন নিহত হয়েছিল, যার মধ্যে একটি যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
এছাড়া দক্ষিণ সুদানেও রুশ সেনাবাহিনীর একটি এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৮ জন নিহত হন, যার মধ্যে ৫ জন ছিলেন রুশ নাগরিক। এর আগে ২০১৭ সালে আইভরি কোস্টে আরেকটি এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এটি রাশিয়ার কূটনৈতিক ও সামরিক বাহিনীয়ের জন্য এক গম্ভীর ক্ষতি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জানানো হয়েছে যে, সব ধরনের সহায়তা ও তদন্ত নিশ্চিত করা হবে

