সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর ফুজাইরা শহরে ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আল রিফা এলাকার একটি খামারে, যেখানে ড্রোনটি মাঝ আকাশে ধ্বংস হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষ খামারের ওপর পড়ে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম (ডব্লিউএএম) এ খবর নিশ্চিত করেছে।
১ এপ্রিল ২০২৬ সকালে ফুজাইরা শহরের আল রিফা এলাকায় এটি ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনটি আকাশে ধ্বংস হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষ খামারের ওপর পড়ায় ওই বাংলাদেশি ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই আরব আমিরাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এটি সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আরব আমিরাত-এ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন এবং ভারতসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে ফুজাইরা-এর মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
এদিকে, গত এক মাসে ১৮৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, সুদান, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি এবং জননিরাপত্তা চরম সংকটে পড়েছে।
ফুজাইরার কর্তৃপক্ষ সব সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং কোনো সন্দেহভাজন বস্তু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে রুখে দিতে সক্ষম হলেও, ধ্বংসাবশেষ লোকালয়ে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু প্রবাসী মহলে শোকের ছায়া ফেলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে তারা নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট, তবে আকাশপথে এই চোরাগোপ্তা হামলাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা এখন কঠিন হয়ে পড়ছে। নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

