হরমুজ প্রণালি ইরানের শত্রুদের জন্য বন্ধই থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটির বিপ্লবী এই বাহিনী বলেছে, প্রণালিটি তাদের নৌবাহিনীর দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সূত্র : তাসনিম নিউজ এজেন্সি
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখন দৃঢ়ভাবে আইআরজিসির নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে আইআরজিসি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি এবং চূড়ান্তভাবে ইরানের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বুধবার ভোর থেকে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের দাবিকে ভুল প্রমাণ করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, ইরানের হামলার সক্ষমতা ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আইআরজিসি এই দাবিকে ‘প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বুধবার ভোর থেকে নৌবাহিনী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৮৯তম পর্যায়ের অংশ হিসেবে পাঁচটি বড় ধরনের এবং ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে কাদির ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, প্রথম হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমা ও দ্বীপে অবস্থিত একটি সামুদ্রিক কাঠামোর ওপর স্থাপিত মার্কিন বাহিনীর দুটি ‘আর্লি ওয়ার্নিং’ বিমান প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের মধ্যাঞ্চলে ‘অ্যাকুয়া ১’ নামের অবৈধ ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ওই ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সীমানার বাইরে মার্কিন বাহিনীর একটি গোপন সমাবেশস্থলে বিপুল সংখ্যক ড্রোন এবং কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর মার্কিন নৌবাহিনীর অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে মানামার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

