ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন এক সময় দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—শত্রুপক্ষ যদি স্থল হামলার চেষ্টা করে, তাহলে কাউকেই জীবিত ফেরত যেতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনা একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে সেনাপ্রধানকে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায়। ওই বৈঠকেই তিনি সেনাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন এবং শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারির আওতায় রাখতে বলেন।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলা হয়, সম্ভাব্য হামলার ধরন আগেভাগে বুঝে তা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুপক্ষ যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিতে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের সামরিক গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।
তার মতে, আধুনিক যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের নয়—তথ্য ও প্রস্তুতিরও। তাই প্রতিটি মুহূর্তে শত্রুর অবস্থান, কৌশল ও সম্ভাব্য হামলার ধরন বুঝে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এই কঠোর অবস্থান এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরপরই। জাতির উদ্দেশে ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকিও দেন।
এর জবাবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—চাপের মুখে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেন, একই ধরনের “যুদ্ধ, আলোচনা, যুদ্ধবিরতি”—এই চক্র আর মেনে নেওয়া হবে না।
তার ভাষায়, চলমান সংঘাত শুধু ইরানের জন্য নয়, পুরো অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে—যতক্ষণ প্রয়োজন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। এরপর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নেমেছে তেহরান।
ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। এতে করে সংঘাত ধীরে ধীরে আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই সংঘাত কি স্থলযুদ্ধে গড়াবে?
বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ইরানের সেনাপ্রধানের বক্তব্য সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে।
সব মিলিয়ে, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে—সংঘাত দ্রুত থামার সম্ভাবনা কম, বরং এটি আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

