মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইসরায়েলের বিমান হামলাকে ঘিরে। ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই হামলায় দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি গুরুতর আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮১ বছর বয়সী খারাজি বুধবারের ওই হামলায় আহত হন। তবে হামলাটি সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, নাকি আশপাশের কোনো স্থাপনায় আঘাত হানার সময় তিনি হতাহত হয়েছেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইরানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন কামাল খারাজি। তিনি সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি-এর সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন।
তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে খারাজি বলেছিলেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, তবে তা তৈরির কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ায়।
বর্তমান সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় খারাজি স্পষ্ট করে বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি এবং আলোচনার মধ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে তিনি মনে করেন।
সাম্প্রতিক এই হামলা শুধু একজন প্রভাবশালী কূটনীতিককে লক্ষ্যবস্তু করেছে—এমনটি নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও তীব্র করে তুলতে পারে। ইতোমধ্যেই চলমান যুদ্ধের মধ্যে এমন ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইসরায়েলি হামলায় কামাল খারাজির আহত হওয়া এবং তার স্ত্রীর মৃত্যুর খবর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
এই ঘটনা শুধু একটি মানবিক বিপর্যয় নয়—বরং এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংঘাত এখন আরও গভীর ও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে কূটনীতির পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।

