মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের একটি নতুন আইনি পদক্ষেপ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ রেখে প্রণীত এই আইনকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবসহ একাধিক মুসলিম দেশ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই আইনের তীব্র নিন্দা জানান।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দখলদার ইসরায়েল তাদের পার্লামেন্ট নেসেট-এ এমন একটি আইন পাস করেছে, যা দখলকৃত পশ্চিম তীরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ সৃষ্টি করে।
তাদের মতে, এই আইন বাস্তবে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে প্রয়োগ করা হবে, যা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড একটি বৈষম্যমূলক ও আগ্রাসী নীতিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং দখলকৃত ভূখণ্ডে তাদের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
এই আইনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ শুধু ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ বাড়াবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
গত সোমবার নেসেট একটি বিতর্কিত বিল অনুমোদন করে। এটি সমর্থন করেছিলেন ইসরায়েলের চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
নতুন আইনে সন্ত্রাসবাদ বা প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এই আইন ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং অনেকেই এটিকে বৈষম্যমূলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করে। তবে যুদ্ধাপরাধ বা রাষ্ট্রদ্রোহের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে তা বহাল ছিল।
১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যান-এর ক্ষেত্রে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়—যা এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ইতিহাসে একমাত্র কার্যকর মৃত্যুদণ্ড হিসেবে পরিচিত।নতুন এই আইন শুধু একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুতে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

