ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলা নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহার করে পরিচালিত এই অভিযানের প্রথম দিনেই বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার পরিমাণ আনুমানিক ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার।
এই ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার খরচ হয়েছে, যা যুদ্ধের ব্যাপকতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, একদিনের এই ব্যয়ই ২০২৬ সালের পুরো মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ০.১ শতাংশের সমান।
ইরানকে ঘিরে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। যুদ্ধ শুরুর পরপরই এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত মাসে মাত্র ছয় দিনের মধ্যে পেন্টাগন জানায়, তাদের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যা যুদ্ধের দ্রুত বিস্তারের একটি বড় উদাহরণ।
যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই পরিবর্তন হচ্ছে দৈনন্দিন ব্যয়ের ধরন। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে খরচ কিছুটা কমেছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এখনো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করছে যুক্তরাষ্ট্র, যা সামরিক অভিযানের উচ্চমাত্রার তীব্রতাকেই নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, নির্ভুল অস্ত্র এবং লজিস্টিক সাপোর্টের কারণে ব্যয় অনেক বেশি হয়ে থাকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর আরও বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ব্যয়ের চাপও তত বাড়বে—যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

