মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ইরানের একটি দাবি। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মধ্য ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই দাবি স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের আলোচনা তৈরি করেছে।
আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ এজেন্সির একটি টেলিগ্রাম পোস্টে বলা হয়, মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ধ্বংস হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়েছে। বিমানের ধ্বংসাবশেষের অবস্থা এতটাই খারাপ যে পাইলটের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চলমান সংঘাতের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো মার্কিন স্টিলথ ফাইটার জেট ভূপাতিত করার দাবি করলো ইরান।
ইরানের আরেক সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে পাইলটের পক্ষে নিরাপদে বেরিয়ে আসা বা ইজেক্ট করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ইরানের সামরিক সূত্রগুলো দাবি করছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তারা এটিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এই ঘটনার পরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে যখন ইরান প্রথমবার একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা সরাসরি অস্বীকার করা হয়। ফলে বর্তমান দাবিটি নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ ও যাচাইয়ের প্রশ্ন উঠে এসেছে।
বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি দাবি ও পাল্টা অস্বীকার একটি নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে ইরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এফ-৩৫ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত। এমন একটি স্টিলথ জেট ভূপাতিত হওয়ার খবর যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে তীব্র আকাশযুদ্ধ চলছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি দাবি এবং পাল্টা দাবি কেবল সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও বহন করছে।
ইরান দাবি করছে, তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম যেকোনো আধুনিক যুদ্ধবিমান শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও দেশটির ভেতরে এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ নিয়ে জনমত ধীরে ধীরে চাপ তৈরি করছে।

