সুদানের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের হোয়াইট নাইল অঙ্গরাজ্যের আল জাবালাইন হাসপাতালে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাত দিয়ে জানা যায়, হামলায় দুটি ড্রোন আঘাত হানে। একটি ড্রোন আঘাত করে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার এবং অপরটি মাতৃত্বকালীন ওয়ার্ডে। ডক্টরস উইদআউট বর্ডারস (এমএসএফ) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলায় নিহতদের মধ্যে ৭ জন ছিলেন চিকিৎসাকর্মী, যারা অনেকেই পূর্বে এমএসএফ-এর সাথে কাজ করেছেন।
এমএসএফ-এর জরুরি বিভাগের প্রধান এস্পেরাঞ্জা সান্তোস বলেন, “এই হামলা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। নিহতদের মধ্যে ৭ জন চিকিৎসক আছেন এবং শিশুকুলের জন্য টিকাদান কর্মসূচি চলাকালীন এমন ঘটনা ঘটেছে, যা আমাদের হৃদয় বিদারক করে তোলে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।”
এই হামলার পেছনে কারা ছিল, সে বিষয়ে এমএসএফ ধারণা করছে, এটি সম্ভবত সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) চালিয়েছে। এটি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে চলমান সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর সংঘাতের পরবর্তী একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে দেখছে।
এছাড়াও, একই দিনে, হোয়াইট নাইল প্রদেশের রাজধানী রাবাকে একটি মেডিকেল সরঞ্জাম গুদামেও হামলা চালানো হয়, যা আরো একবার সুদানে চলমান সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আনে।
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানিয়েছে, মার্চ মাস থেকে দক্ষিণ কোরদোফান, ব্লু নাইল, পূর্ব, মধ্য ও দক্ষিণ দারফুরসহ বিভিন্ন প্রদেশে ড্রোন হামলা পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সুদানে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর উপর ২০০টিরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে, গত মাসেই দারফুর অঞ্চলের একটি হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১৩ জন শিশু ছিল।
এই হামলার ঘটনায় সুদানের সংস্কৃতি, তথ্য ও পর্যটনমন্ত্রী খালিদ আলেইসি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এই ধরণের ঘটনা শুধু সুদানে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একটি বড় উদাহরণ নয়, বরং এটি পুরো বিশ্বের জন্য একটি হুঁশিয়ারি, যেখানে মানবিক সহায়তা কর্মীরা এবং চিকিৎসকরা হামলার শিকার হচ্ছেন, বিশেষত যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায়।
এমন মর্মান্তিক হামলার পর, বিশ্ব সম্প্রদায় একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে যাতে মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

