যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে গত শুক্রবার পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর অন্তত ১৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৬৫ জন। সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে হতাহতের এই সংখ্যা—যা যুদ্ধ পরিস্থিতির গভীরতা এবং ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্ট করে তুলছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এই হতাহতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়, বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রভাব নিয়ে।
ইরানের আকাশে গতকাল দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন কি না, কিংবা এই ঘটনাটি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হতাহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
পেন্টাগনের দেওয়া বিস্তারিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আহত ৩৬৫ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪৭ জনই যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনীর সদস্য। এছাড়া নৌবাহিনীর ৬৩ জন এবং বিমান বাহিনীর ৩৬ জন সদস্য আহত হয়েছেন। মেরিন কর্পসের আহত সদস্য রয়েছেন ১৯ জন। বাহিনীভিত্তিক এই বিভাজন থেকে বোঝা যায়, সংঘাতের প্রভাব প্রায় সব শাখার ওপরই পড়ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে; বাস্তব পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্য প্রবাহ অনেক সময় বিলম্বিত বা অসম্পূর্ণ থাকে। এর ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত এখন আরও তীব্র ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। মার্কিন বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতি শুধু সামরিক নয়, কৌশলগতভাবেও বড় চাপ তৈরি করছে—যার প্রভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও পড়তে পারে।

