ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন করে চালানো হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ধরনে পরিবর্তন এনে রাশিয়া দিনের বেলাতেও আক্রমণ জোরদার করায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া আগে মূলত রাতের অন্ধকারে বিমান হামলা চালাত। তবে গত কয়েক সপ্তাহে কৌশল বদলে দিনের বেলাতেও হামলা বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) চালানো সর্বশেষ হামলাটিও দিনের বেলাতেই হয়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় রুশ বাহিনী পাঁচ শতাধিক ড্রোন এবং ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এত বড় পরিসরের হামলা ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কি অভিযোগ করে বলেন, ক্যাথলিক ইস্টারকে সামনে রেখে রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, “যে সময় আকাশে নীরবতা থাকার কথা, সেটিকে ইস্টারকে ঘিরে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলা হয়েছে।”
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, হামলায় বহু আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বহুতল ভবনের অংশ ধসে পড়েছে, আবার কোথাও রাস্তাজুড়ে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানিয়েছেন, এই হামলায় তার অঞ্চলে একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া একটি পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে আঘাত হানায় প্রায় ২০টি প্রাণী মারা গেছে।
হামলার সময় রাজধানীর অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার জন্য মেট্রো স্টেশন বা বেজমেন্টে আশ্রয় নেন। তবে কেউ কেউ সাইরেন বাজার পরও স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যান—ক্যাফেতে বসে থাকার ঘটনাও দেখা গেছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেনকো জানান, কিয়েভ অঞ্চলের ওবুখিভে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানে। এছাড়া ভিশনেভেতে একটি কিন্ডারগার্টেন ও স্কুলের মাঝামাঝি এলাকায় আরেকটি হামলায় আশপাশের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ঝিতোমির অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া খারকিভ, দোনেৎস্ক ও খেরসনের মতো ফ্রন্টলাইন এলাকাগুলোতে হামলায় আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার এই সমন্বিত হামলা যুদ্ধের নতুন এক তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় আক্রমণ বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

