মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শুধু স্থলভাগ বা আকাশসীমার মধ্যে আটকে নেই। এখন এর অভিঘাত পৌঁছে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক গলিপথগুলোর একটিতে—হরমুজ প্রণালিতে। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে এমন এক নতুন প্রশ্ন, যার প্রভাব শুধু ইরান, ওমান বা উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। প্রশ্নটি হলো: হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার আসলে কার, আর ইরান কি সত্যিই এখানে টোল বা শর্ত আরোপ করতে পারে?
এই প্রশ্ন এখন আর কেবল আইনবিদদের আলোচনার বিষয় নয়। কারণ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সবকিছুর সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সরাসরি জড়িয়ে আছে। ইরান যদি সত্যিই এখানে টোল ব্যবস্থা বা নির্বাচিত প্রবেশাধিকারের মতো কিছু চালু করতে চায়, তাহলে তা একটি আঞ্চলিক পদক্ষেপের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথের নিয়মের ওপরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
কেন হরমুজ এত গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের এক অতি সংবেদনশীল পথ। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি উপসাগরকে ওমান সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, আর এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। এত সংকীর্ণ একটি পথ দিয়েই প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল চলাচল করে। এশিয়ার জ্বালানি বাজারের জন্য এর গুরুত্ব আরও বেশি। ফলে এখানে সামান্য অনিশ্চয়তাও আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণেই হরমুজকে শুধু একটি সামুদ্রিক পথ হিসেবে দেখা ভুল হবে। এটি আসলে বিশ্ব অর্থনীতির এক ধমনী। এই পথ দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে শুধু জ্বালানির দামই বাড়ে না, শিপিং খরচ, বীমা প্রিমিয়াম, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বহু দেশের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসও বদলে যেতে পারে। তাই ইরান যদি এখানে “শর্তসাপেক্ষ চলাচল” বা “টোল”–এর মতো ধারণা সামনে আনে, সেটি পুরো বিশ্বের কাছে উদ্বেগের কারণ হওয়াই স্বাভাবিক।
ইরান কী করতে চাচ্ছে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান বৃহস্পতিবার আবারও জানিয়েছে যে, তারা ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির ট্রাফিক তদারকির জন্য একটি প্রটোকল তৈরি করছে। একইসঙ্গে তেহরান এমন কিছু ইঙ্গিতও দিয়েছে, যাতে বোঝা যায় তারা প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর শর্ত আরোপ বা এমনকি টোল বসানোর কথাও ভাবছে। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি কেবল যুদ্ধকালীন চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি দীর্ঘমেয়াদি নতুন এক সমুদ্রনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা?
ইরানের যুক্তি হলো, তারা এখন যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে, আর যুদ্ধকালীন বাস্তবতা শান্তিকালীন নিয়ম দিয়ে সবসময় পরিচালিত হয় না। এখানেই মূল দ্বন্দ্ব। কারণ আন্তর্জাতিক আইনের ভাষা একরকম, কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের শক্তির বাস্তবতা প্রায়ই আরেকরকম।
আইন কী বলে, আর বাস্তবতা কোথায় আলাদা
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালির সংলগ্ন জলসীমার ওপর সার্বভৌমত্ব রাখলেও সেই সার্বভৌমত্ব পূর্ণ স্বাধীন নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয় না। কারণ হরমুজ এমন একটি প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের জলপথে “ট্রানজিট প্যাসেজ” বা অবিচ্ছিন্ন ও দ্রুতগামী চলাচলের অধিকার স্বীকৃত। সহজ ভাষায়, জাহাজ কেবল এই পথ দিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা অনুমতি নিতে বাধ্য নয়, এবং শুধু “অতিক্রম” করার কারণে কোনো রাষ্ট্র ইচ্ছামতো ফি ধার্যও করতে পারে না।
জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ বা UNCLOS–এর ৩৭ থেকে ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে এই ট্রানজিট প্যাসেজের কাঠামো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ স্পষ্ট করে যে, কেবল পথ দিয়ে চলাচলের কারণে বিদেশি জাহাজের ওপর চার্জ আরোপ করা যাবে না। নির্দিষ্ট সেবা দিলে আলাদা কথা, যেমন পাইলটেজ, বন্দর সহায়তা বা নির্দিষ্ট নেভিগেশনাল সাপোর্ট। কিন্তু কেবল “এ পথ ব্যবহার করতে চাইলে টাকা দিতে হবে”—এমন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইনসম্মত নয়। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, হরমুজকে “পারমিশন-বেসড করিডর” বা অনুমতিনির্ভর গেটওয়েতে পরিণত করা যাবে না।
তাহলে ইরানের পরিকল্পনা কেন এত আলোচিত
কারণ এখানে শুধু আইনের প্রশ্ন নেই, ক্ষমতার প্রশ্নও আছে। আন্তর্জাতিক আইনে কোনো কিছু অবৈধ হলেই তা বাস্তবে থেমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। যদি কোনো জাহাজ-মালিক দেখেন, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে পড়ার চেয়ে টোল দিয়ে যাওয়া কম ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে কিছু কোম্পানি বাস্তবতার কারণে সেটিই বেছে নিতে পারে। অর্থাৎ, “আইন কী বলছে” এবং “কী ঘটছে”—এই দুইয়ের ব্যবধানই এখন হরমুজ ইস্যুর সবচেয়ে অস্থির জায়গা।
এই কারণেই অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ইরানের এই পরিকল্পনা শুধু অর্থ তোলার উদ্যোগ নয়; বরং এটি দরকষাকষির নতুন অস্ত্র। দেশটি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধের ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে হরমুজের মতো কৌশলগত জলপথকে ব্যবহার করে নতুন আয়, নতুন চাপ, কিংবা নতুন আন্তর্জাতিক সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা—সবই একইসঙ্গে চলতে পারে।
যুদ্ধ, আয় এবং কৌশল—তিনটি হিসাব একসঙ্গে
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পরিকল্পনার পেছনে অন্তত তিনটি বড় উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
প্রথমত, অর্থনৈতিক হিসাব। যুদ্ধ ব্যয়বহুল, আর নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত অর্থনীতির জন্য নতুন রাজস্ব উৎস তৈরি করা সবসময়ই বড় প্রলোভন। হরমুজ দিয়ে যাওয়া জাহাজে যদি কোনোভাবে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা যায়, সেটি তেহরানের জন্য একটি আকর্ষণীয় কৌশল হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ভূরাজনৈতিক নজির তৈরি। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চাইতে পারে, যা ভবিষ্যতে অন্য বিরোধপূর্ণ জলপথেও মিত্র দেশগুলো অনুসরণ করতে পারে। অর্থাৎ, এটি কেবল হরমুজ নয়; ভবিষ্যতের সামুদ্রিক রাজনীতিরও একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হতে পারে।
তৃতীয়ত, শেষ বড় চাপের জায়গা ধরে রাখা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি দুর্বল হয়েছে, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও চাপের মুখে, আর ভেতরেও চাপ বাড়ছে। এই অবস্থায় হরমুজ সম্ভবত তেহরানের হাতে থাকা শেষ বড় কৌশলগত লিভারগুলোর একটি। ফলে আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলেও, রাজনৈতিকভাবে এটি তাদের কাছে মূল্যবান হাতিয়ার।
হরমুজে ইতিমধ্যে কী বদলে গেছে
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজে বাস্তব পরিবর্তন দেখা গেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ৩১ মার্চ পর্যন্ত ইরানের তদারকিতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে মাত্র ২৯২টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কম। এর অর্থ হলো, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বাস্তবে ভয়, ঝুঁকি, বাড়তি বীমা খরচ এবং অনিশ্চয়তার কারণে ট্রাফিক অনেক কমে গেছে।
কয়েকটি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ ও এর আশপাশে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজও আঘাতের মুখে পড়েছে। একইসঙ্গে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করেছে, তাদের অনুমোদন ছাড়া যে জাহাজ এই পথ অতিক্রমের চেষ্টা করবে, তা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এই অবস্থার ফলে কার্যত একটি ডি ফ্যাক্টো অবরোধসদৃশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যদিও ভাষাগতভাবে সেটিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইরান নিজে বলছে, প্রণালি “বিশ্বের জন্য খোলা”, কিন্তু “শত্রুদের জন্য বন্ধ”। আর এটাই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হরমুজ কি সুয়েজ বা পানামার মতো?
অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন, সুয়েজ বা পানামা খাল দিয়ে চলাচলে ফি লাগে, তাহলে হরমুজে লাগলে সমস্যা কোথায়? এখানেই আইনি পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। সুয়েজ ও পানামা কৃত্রিম খাল, আর হরমুজ একটি প্রাকৃতিক প্রণালি। খালের ক্ষেত্রে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের চার্জ আরোপের ভিন্ন আইনি ভিত্তি আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রাকৃতিক প্রণালিতে নিয়ম আলাদা। সেখানে মূল নীতি হলো—চলাচল অবিচ্ছিন্ন, দ্রুত এবং বৈষম্যহীন হতে হবে। ফলে হরমুজে টোল বসানো মানে শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি প্রাকৃতিক সামুদ্রিক রুটকে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথে বদলে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা হবে।
বিশ্ব কী করবে?
এখানে বড় প্রশ্ন হলো—কে এই নিয়ম প্রয়োগ করাবে? আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ, কূটনৈতিক চাপ, আইনি যুক্তি—এসব অবশ্যই থাকবে। বিশেষ করে ভারত, চীন, ইউরোপ এবং উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর স্বার্থই হরমুজ খোলা রাখা। তারা কেউই এমন পরিস্থিতি চাইবে না, যেখানে একটি রাষ্ট্র রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
কিন্তু এত বড় স্বার্থ জড়িত থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত খুব কম। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সামরিক হস্তক্ষেপের পথ এড়িয়ে গেছে। চীন ও ভারতও প্রকাশ্যে এমন কোনো প্রয়োগমূলক অবস্থান নেয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ভাঙা-ভাঙা ও অসম রয়ে গেছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো নৌচলাচলের স্বাধীনতার কথা বলছে, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘ-সমর্থিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাইছে, আর চীন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপকেই এই সংকটের কারণ হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে হরমুজ এখন শুধু বাণিজ্যপথ নয়, বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতারও নতুন ফাটলরেখা হয়ে উঠছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো কেন বিকল্প পথ খুঁজছে
প্রতিবেদন বলছে, ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ এড়িয়ে পাইপলাইন ও বিকল্প করিডোরে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এতে বোঝা যায়, তারা বুঝতে পারছে এই জলপথের ওপর অতিনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে স্বল্পমেয়াদে এগুলো পূর্ণ সমাধান নয়। কারণ হরমুজ এখনো অপরিবর্তনীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প রুট থাকলেও, তা সব জ্বালানি প্রবাহ পুরোপুরি বহন করতে পারবে না। ফলে হরমুজের যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ওজন, তা এখনও কমেনি।
বিষয়টি কেন শুধু ইরান-ওমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়
দেখতে এটি একটি সীমান্তবর্তী সামুদ্রিক বিরোধের মতো লাগলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আরও বড় প্রশ্ন। যদি আজ হরমুজে টোল বা জাতীয়তার ভিত্তিতে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থা কার্যকর হয়, তাহলে কাল অন্য কোনো কৌশলগত জলপথেও একই যুক্তি তোলা হতে পারে। তখন বিশ্ব বাণিজ্য আরও ব্যয়বহুল হবে, অনিশ্চয়তা বাড়বে, আর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তাও সেখানেই—হরমুজে যদি আইনের বদলে শক্তির দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সামুদ্রিক আইনের ভিত্তিগত নীতিগুলোই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আর একবার যদি বড় শক্তিগুলো বুঝে যায় যে আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙেও কৌশলগত সুবিধা নেওয়া সম্ভব, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের টোল পরিকল্পনা আপাতদৃষ্টিতে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের কৌশল মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটি তার চেয়ে অনেক বড় কিছু। এখানে একদিকে আছে আন্তর্জাতিক আইন, যেখানে নৌচলাচলকে অবাধ, দ্রুত ও বৈষম্যহীন রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে আছে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ এবং ভূরাজনৈতিক হিসাব—যেখানে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে রাষ্ট্রগুলো আইনের সীমা ঠেলে দিতে প্রস্তুত।
এই কারণে হরমুজের বর্তমান সংকট কেবল “কে পথ নিয়ন্ত্রণ করবে” সেই প্রশ্ন নয়। এটি আরও বড় এক পরীক্ষার নাম—বিশ্ব সমুদ্রপথে শেষ কথা বলবে আইন, নাকি শক্তি? আর এই প্রশ্নের উত্তর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়; ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক ব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

