দীর্ঘ অচলাবস্থার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে আংশিক ছাড় দিয়েছে ইরান। দেশটির সরকার জরুরি পণ্যবাহী জাহাজগুলোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বন্দর অভিমুখে যেসব জাহাজ বর্তমানে ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে, তারা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দেয় ইরান। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের এই নতুন সিদ্ধান্তকে অনেকেই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা অন্তত জরুরি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে।
তবে এই অনুমতি পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কেবলমাত্র অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহনকারী জাহাজগুলোকেই এই সুবিধা দেওয়া হবে এবং তাদের অবশ্যই কঠোর নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি জাহাজকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলাচল করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি পণ্যের সরবরাহ সচল রাখার লক্ষ্যেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যাতে মানবিক সংকট আরও তীব্র না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে ইরান একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার দিকেও নজর দিচ্ছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে হলে এই জলপথে পূর্ণাঙ্গ স্থিতিশীলতা ফেরানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

